ঢোক গিলতে গলা ব্যথার ওষুধ।গলা ব্যথার ঔষধের নাম

ঢোক গিলতে গলা ব্যথার ওষুধ।গলা ব্যথার ঔষধের নাম


আসসালামু আলাইকুম আশা করি সকলেই ভালো আছেন।আমরা অনেকেই ঢোক গিলতে গলা ব্যথার সমস্যায় প্রতিনিয়ত ভোগে থাকি।তাই আজকের পোস্টে আমরা ঢোক গিলতে গলা ব্যথার ওষুধ সম্পর্কে আলোচনা করবো।তাহলে চলুন দেরি না করে জেনে নেওয়া যাকঃ- 


ঢোক গিলতে গলা ব্যথার ওষুধ /গলা ব্যাথার ঔষধের নাম



ঢোক গিলতে গলা ব্যথা করলে অনেক কষ্ট হয়।কারণ আমাদের খাবারটা গলা দিয়ে নামে।যখন আমরা খাবার খাই তখন আমাদের খাবার খেতে ঢোক গিলতে হয়।এই ঢোক গিলার সময় আমাদের গলায় অনেক ব্যথা হয়ে থাকে। আর এই ব্যথায় আমাদের অনেক কষ্ট হয়। অনেক সময় প্রাকৃতিক উপায়ে গলা ব্যথা থেকে উপকার পাওয়া যায়।গলা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে নিচে ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো: 



১-গার্গলঃ



গলা ব্যথার সবচেয়ে কার্যকরী ঘরোয়া চিকিৎসা এটি। গবেষণায় দেখা গেছে,কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে গার্গল করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।এ পদ্ধতিটি শুধু গলার জীবাণুকেই ধ্বংস করে না,ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে।কাজেই এক কাপ হালকা গরম পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে দিনে দুই-তিন বার গার্গল করুন,উপকার পাবেন।লবণ আন্টিসেপটিকের কাজ করে এবং গরম পানি গলা থেকে কফ পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। 



২-তরল খাবার



হাঁচি ও কাশির কারণে প্রচুর তরল নি:সরণের জন্য শরীর অনেকটাই পানিশূন্য হয়ে যায়। তাই গলা ব্যথায় প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাবেন। এ সময় গরম সুপ খেলেও ভালো উপকার পাওয়া যায়। 



৩-লজেন্স



মেনথল সমৃদ্ধ কিছু লজেন্স আছে,যা চুষার ফলে গলা ব্যথা কমে যায়।কাজেই ব্যথা কমাতে এগুলো খেতে পারেন।এগুলো মূলত ক্লোরোসেপটিক অর্থাৎ গলায় একটা আরামদায়ক অনুভূতি এনে দেয়ার পাশাপাশি জীবাণুনাশেও সাহায্য করে। 



৪-চা



গলা ব্যথায় গ্রীন টি বা হারবাল চা অনেক বেশি কার্যকর।দিনে দুই-তিন বার গরম চা আমাদের অনেকটাই সস্তি দিতে পারে।গ্রিনটি বা অন্য কোনো হারবাল চা আরও ভালো। চাইলে চায়ের মধ্যে লেবুর রস বা লবঙ জাতীয় জিনিস যোগ করুন,যা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ করবে। 



৫-লেবুর রস ও মধুর মিশ্র



লেবু ও মধুর মিশ্রণ গলা ব্যথা উপশমে বেশ উপকারী। এই দুটি উপাদানের মিশ্রণ গলার ভিতরে প্রদাহ রোধ করে আরাম দিতে সাহায্য করে। 



৬-আদা ও মধু চা



গলার জন্য দারুণ উপকারী মধু ও আদা মিশ্রিত চা।গরম চা গলা ব্যথায় আরাম দেয়।আর এই চা-এর ঘ্রাণও ঠান্ডার সমস্যায় বেশ উপকারী।তাছাড়া বুকে জমে থাকা কফ দুর করতেও সাহায্য করবে।মধু গলার খুশ-খুশে ভাব দুর করতে সাহায্য করে। 



৭-ভিনেগার-মধু মিশ্রণ



এক কাপ গরম পানিতে ১ টেবিল চামচ আপেল রসের সিরকা ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পানীয় হিসেবে পান করলে বেশ উপকার পাওয়া যাবে।অনেকের এর স্বাদ ভালো নাও লাগতে পারে।তবে এই পানীয়তে এসিডিটিও মধু থাকায় এটি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ব্যথাকে শীতল করে।কেউ যদি পান করতে চায় তবে আধা কাপ গরম পানিতে শুধু ২টেবিল চামচ;আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে গার্গল করতে পারে।



৮-রসুনের রস



শুনতেই একটু অন্যরকম লাগলেও এটি একটি অন্যতম প্রাকৃতিক উপাদান যা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার সাথে সাথে গলা ব্যথার জন্য দায়ী জীবাণুকে ধ্বংস করে।একটি রসুনের কোয়া ২/৩ ভাগে টুকরো করে মুখের ভেতর রেখে চুষতে হবে দিনে ১ বার।

 


৯-লবঙ 



গলা ব্যথায় এর ব্যবহার অনেক পুরনো।এটি ব্যথানাশকের মত কাজ করে থাকে এবং এন্টি-ব্যক্টেরিয়া গুন সম্পন্ন।১/২টি খন্ড মুখে দিয়ে চুষতে হবে।নরম হয়ে আসলে এটিকে চিবোতে হবে চুইংগামের মত।চাইলে মুখে পানি রেখেও এই কাজ করা যায়।খেয়ে ফেললেও ক্ষতি নেই। 



১০-আদা পানীয়



আদা একটু ঝাঁঝালো যা ঠান্ডা জনিত সমস্যায় বেশ কার্যকরী।২ ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা আদার টুকরার চামড়া ছিলে ছোট টুকরো করে কেটে থেঁতলে ২-৩ কাপ পানিতে সিদ্ধ করতে হবে ৩-৫মিনিট। চাইলে মধু/লেবু দেওয়া যেতে পারে।চায়ের মত উষ্ণ থাকতে পান করতে হবে। 



এইভাবেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে গলা ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। তারপরেও যদি না কমে তাহলে ডাক্তারের চিকিৎসা অনুযায়ী ওষধ খেতে হবে।



ঢোক গিলতে গিয়ে সমস্যা হয় কেন 



হঠাৎ করে যে কেউ গলা ব্যথায় আক্রান্ত হতে পারে।সাধারণত ঋতু পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ ঠান্ডা লাগা কিংবা অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে না পারার কারণে অনেকের গলা ব্যথা হতে পারে,এই গলা ব্যথা থেকে ঢোক গিলতে কষ্ট হয়।শুধু তাই নয়,খুস্খুসে কাশি আর জ্বরও অনেক সময় গলা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।এ সময় কন্ঠনালিতে সংক্রমণ হওয়ায় গলার গ্রন্থিগুলো ফুলে যায় ও ব্যথা করে।তখন কোন কিছুই খাওয়া যায় না।কারণ গ্রন্থিগুলো ফুলে যাওয়ার কারণে ঢোক গিলতে কষ্ট হয় যে জন্য কিছুই খাওয়া যায় না।এমনকি পানি পান করতে গেলেও অনেক কষ্ট হয়।



গলা ব্যথার কারণগুলোর মধ্যে প্রধান হলো ফ্যারিনজাইটিস।মূলত ভাইরাসজনিত ফ্যারিনজাইটিস বেশি হয়ে থাকে,যা থেকে পরে ইনফেকশন হতে পারে।ফ্যারিনজাইটিস অনেক সময় একই সঙ্গে টনসিলের প্রদাহও তৈরি করে।এইজন্য ঢোক গিলতে সমস্যা হয়।মূলত গলা ব্যথা থেকেই ঢোক গিলতে সমস্যা হয়। 



এছাড়াও অতিরিক্ত ধুলাবালি ও দুষণযুক্ত পরিবেশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে এই ফ্যারিনজাইটিস ভাইরাসটি হয়।যা থেকে ঢোক গিলতে সমস্যায় পরতে হয়। 



গলা ব্যথার এলোপ্যাথিক ঔষধ/গলা ব্যাথার ঔষধ কি



১.Zerodol-P

২.Napa Extend

৩.Napa

৪.Rolac

৫.Sualex

৬.Flexi



দ্রুত গলা ব্যথা কমানোর ঔষধ 



দ্রুত গলা ব্যথা কমানোর জন্য নাপা এক্সটেন্ড অথবা নাপা ঔষধ এক সাথে দুইটা খেলেই কমে যায়। এছাড়া রোলাক,ফ্লেক্সি,সুলাক্স রয়েছে।এই ঔষধ গুলো খেলে কমে যাবে।এরপরেও যদি না কমে তাহলে ডক্সিক্যাপ অথবা ট্রাইডোসিল ৫০০ অথবা ই ফিক্স ১০০ খেলে দ্রুত গলা ব্যথা কমে যাবে। 




বাংলাদেশে গলা ব্যথার ট্যাবলেট এর নাম



১.Napa 

২.Napa Extend 

৩.Rolac 

৪.Sualex 

৫.Doxicap 

৬.E-fix 100mg 

৭.Zerodol-P

৮.Tridosil-500mg

৯.Moxacil-500mg

১০.Zimax-500mg




গলা ব্যথার এন্টিবায়োটিক ঔষধ 


১.Doxicap 

২.E-fix-100mg 

৩.Tridosil-500mg

৪.Moxacil-500mg 

৫.Zimax-500mg 

৬.Doxin-100mg 



গলা ব্যথার হোমিওপ্যাথি ঔষধ



১.Bellladona 

২.Ignatia 

৩.Phosphorus

৪.Hepar Sulph 

৫.Bryonia Alb

৬.Drosera Rot 

৭.Arsenic Album 

৮.Causticum 

৯.Lachesis 

১০.Aconit Nap

১১.Argent Nit

১২.Marc sol 

১৩.Baryta Carb 




গলা ব্যথা হলে কি খাওয়া উচিত



হালকা গরম পানির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে গড়গড়া করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।গলা ব্যথায় চা অত্যন্ত কার্যকর উপশমকারী।আদা,আদার রস,লবঙ,মধু প্রভৃতিও বেশ আরামদায়ক।



এছাড়া গোল মরিচ পানীয় ১ কাপ সিদ্ধ পানিতে আধা চা-চামচ গুঁড়ো,১ চা-চামচ মধু ভালো করে নেড়ে মিশিয়ে নিতে হবে।তারপর হালকা গরম থাকতে খেতে হবে। 



সিদ্ধ গাঁজর অসুস্থ অবস্থায় বেশ উপকারী।তবে গলা ব্যথায় কাচাগাঁজর খাওয়া বেশ কষ্টকর।তাই গাঁজর সিদ্ধ করে তারপর খেতে হবে।আঁশ সমৃদ্ধ গাঁজরে আছে ভিটামিন এ,সি এবং কে।আরও আছে পটাশিয়ামসহ আরও অনেক পুষ্টি উপাদান। শরীর দ্রুত সুস্থ হতে এই উপাদানগুলো জরুরি। 



বেকিং সোডা ঘরে প্রায়শ থাকে। যা গলা ব্যথার সবচেয়ে ফলফসূ ঘরোয়া উপাদান।১কাপ গরম পানিতে আধা চা চামচ লবণ ও আধা চা চামচ বেকিংসোডা মিশিয়ে মুখের ভিতর রেখে রেখে মিশ্রণটি দিয়ে কুলকুচো করতে হবে দিনে ২/৩ বার।

 


চিকেন সুপ গলা ব্যথায় বহুল জনপ্রিয় একটি খাবার।গরম সুপে রয়েছে আন্টিবায়োটিক উপাদান যা গলা ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।তাছাড়া এই সুপ গলার পেশীতে ভাইরাসের সংক্রমণ রোধেও সাহায্য করে।সুপ তৈরিতে গাঁজর,পেঁয়াজ,আদা, ইত্যাদিসহ আরও মৌসুমে সবজি মিশিয়ে নিলে তা পুষ্টিগুণ বাড়াবে আরও কয়েকগুণ। 



এইসকল খাবার খাওয়া উচিত গলা ব্যথার জন্য।কারন এই সকল খাবারে প্রচুর পরিমাণে উপকার রয়েছে।



শেষ কথা,আশা করি আজকের পোস্টে যারা পড়েছেন তারা ঢোক গিলতে গলার ব্যথার ঔষধ, এবং সকল কিছু সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।এরপরেও যদি এই বিষয় সম্পর্কে কিছু জানার থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

ধন্যবাদ। 


পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
কোন মন্তব্য নেই
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না ।

comment url